ব্রাহ্মণবাড়িয়া.প্রেসঃ- আজ ০২-০২-২০১৮ ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সম্মেলন। উপস্থিত ছিল ঢাকা থেকে আগত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারিসহ বিভিন্ন নেত্রীবৃন্দ।

 

পাশাপাশি একই দিনে ছিল জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মাসুম বিল্লাহর জন্মদিন।আজ এই জেলাতে নতুন প্রজন্ম জেলা সভাপতি ও সেক্রেটারিসহ আরো অনেকেই যোগদান করবে। কিন্তু একইদিনে তার জন্মদিন হওয়াতে তার ভালবাসার কর্মীগন সেই আনন্দ ও কষ্ট মূহুর্তগুলো সবাইমিলে সুন্দরভাবে উপভোগ করেছেন।

এইদিনে যেন সভাপতি মাসুম বিল্লাহর জন্মদিন পালন না করে সবার জন্যে দোয়া চেয়েছেন। যা  সম্পূর্ণ লিখাটি মাসুমবিল্লাহর পোষ্ট থেকে নেওয়া।

আস্সালামু আলাইকুম
আমার প্রান প্রিয় বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী-সহযোদ্ধা, শোভাকাঙ্খী সহ সকল প্রিয়ভাজনদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষন করছি, আপনারা হয়ত অনেকেই অবগত আছেন যে, গত ২৪ জানুয়ারি ২০১৭ আমার পিতা হাজী মোঃ নিজাম উদ্দিন পরলোক গমন করেছেন। এবং আগামী ৪ঠা ফেব্রুয়ারী বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত শেষে মর্মান্তিক সরক দুর্ঘটনায় শাহাদাতবরণ কারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের ১১জন ছাত্রনেতার মৃত্যুবার্ষিকী।
উপরের উল্ল্যেখিত এই দুইটি দিবস আমার জীবনের সবচেয়ে করুণ ও শোকাবিহল দিবস।

 

জানিনা যতদিন বেচে থাকব, আমার আব্বার মৃত্যুশোক কাটিয়ে উঠতে পারব কিনা। আমার আশা-ভরশা, চাওয়া-পাওয়ার একমাত্র শেষ ভরসা ও আশ্রয়স্থল ছিল আমার আব্বা। আব্বা জীবিত অবস্থায় কখনো মনেই হয়নি যে, আমি বড় হয়েছি। জন্মের পর উনার সেই নাবালক, অবুজ শিশু মাসুমকে যেভাবে আগলিয়ে রাখত, উনার শেষ নিঃশ্বাস অবদি ঠিক সেই ভাবেই আমাকে আগলিয়ে রেখেছিল। আমার জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ ও সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথকে মসৃন রাখতে উনি সর্বদা আমার মাথার উপরে ছাতা হয়ে আমার পাশে থাকত। ছাত্র রাজনীতি করতে গিয়ে জীবনে অনেক বড় বড় ঝুঁকি ভয়-ডরহীন খুব সহজেই মোকাবেলা করতে সাহস পেয়েছি কারন কোন বিপদ গঠলে বা হুচট খেলে আব্বা তু আছেই।

আগামীকাল ২ ফেব্রুয়ারী আমার জন্মদিন।

আমার সকল প্রিয়জনদের কাছে আমার আকুল নিবেদন, আমার জন্মদিন উপলক্ষ্যে কেউ কোন কেক কাটা কিংবা কোন অানন্দ উৎসব করবেন না। বরং আমাকে শুভেচ্ছা জানানোর পরিবর্তে আপনারা আমার আব্বা সহ আমাদের মধ্যে যাদের আব্বা-আম্মা এই পৃথিবীতে নেই এবং আমার ১১ জন সহযোদ্ধার বিদেহী আত্তার শান্তি ও মাগফেরাত কামনা করে দোয়া-প্রার্থনা করার অনুরোধ করছি।

আপনাদের দোয়া-প্রার্থনার উছিলায় যদি আমার বাবা সহ আমাদের সকলের প্রয়াত বাবা-মা এবং আমার ১১জন সহযোদ্ধার আত্তা সামান্যতম শান্তিও পায়, তাহলেই সন্তান হিসেবে ও একজন সহযোদ্ধা হিসেবে আমার জন্মদিনটিকে কিছুটা হলেও স্বার্থক মনে করব।

By khobor

One thought on “একই দিনে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন ও সভাপতি মাসুম বিল্লাহর জন্মদিন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *