ব্রাহ্মণবাড়িয়া.প্রেস:–  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে জমিতে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে করে হুমকিতে পড়েছে আশপাশের কৃষি জমি গুলো। 

এই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর আদালত ১৪৪ধারা জারি করলেও পুলিশ নেয়নি কোন প্রকার ব্যবস্থা। আদালতের সমন পাওয়ার ২২দিন পর ঘটনাস্থলে গিয়েছে পুলিশ। এই সুযোগে ভূমিদস্যুরা জমিকে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন করে পুকুর বানিয়ে দিয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জেলার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুরের মৃত নাসির উদ্দিনের মেয়ে সাবেরা বেগম বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। এতে আসামী করা হয়েছে একই এলাকার মৃত আনজব আলীর ছেলে কাপ্তান মিয়াকে। 

সরেজমিনে জেলার নাসিরনগরের হরিপুরে গিয়ে দেখা যায় ওই জমিতে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন করে পুকুর বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার গভীরতা প্রায় ১৫ফুট। স্থানীয়রা জানায়, মৃত নাসির উদ্দিনের ৬৭ শতাংশ জমি রয়েছে। তিনি মারা যাওয়ার পর তার ৪ ছেলে ও ৪মেয়ে এই জমির মালিক। এই জমির পাশের কাপ্তান মিয়া নামের এক প্রভাবশালীর জায়গা ও ইটভাটা রয়েছে। গত ১২ জানুয়ারী রাতে কাপ্তান মিয়া ওই জমিতে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে মাটি উত্তোলন শুরু করেন। এই মাটি তিনি তার ইটভাটা ও আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে বিক্রয় করেন। আর কাপ্তান মিয়াকে সহায়তা করেন মৃত নাসির উদ্দিনের এক ছেলে ওসমান মিয়া। এই ওসমানের সাথে তার অন্যান্য ভাই-বোনের বনিবনা নেই। তার বিরুদ্ধে প্রায় দেড় ডজন মামলা রয়েছে। তাই কোন উপায় না পেয়ে মৃত নাসির উদ্দিনের মেয়ে সাবেরা বেগম অন্যান ভাই-বোনের পক্ষে বাদি হয়ে গত ১৪ জানুয়ারি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করতে মামলা দায়ের করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ১৪৪ ধারা আদেশ দিয়ে নাসিরনগর থানাকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেন। গত ১৭ জানুয়ারী থানায় আদালতের আদেশ গিয়ে পৌছায়। কিন্তু থানা আদেশ পালন করতে গাফেলতির করে কোন প্রকার ব্যবস্থা নেননি। 

মামলার বাদি সাবেরা বেগম বলেন, আদালতের ১৪৪ধারা কাগজ ১৭জানুয়ারী থানায় গিয়ে পৌঁছে। কাগজ পাওয়ার পরও থানা থেকে এই বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায়, কাপ্তান মিয়া তার দাপটে আমাদের জমি থেকে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছিল। পরে আমি ২২ জানুয়ারী থানায় গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আদেশটি নিয়ে টালবাহানা শুরু করেন। তারপর ঘটনাস্থলে পুলিশ না যাওয়ায় আবার ২৫ জানুয়ারী থানায় যাই। কিন্তু তাতেও থানা থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। গত ১০ ফেব্রুয়ারী কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি উত্তোলনের ছবি তুললে ড্রেজার নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর দিন তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে আসেন।

তিনি আরও বলেন, কাপ্তানের পরিবার অনেক দাপটশালী। তিনি এবার ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। তার আপন চাচাতো ভাই স্থানীয় ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি। এছাড়াও তাদের পরিবারটি এলাকায় বিতর্কিত। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খোলে না।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত কাপ্তান মিয়া বলেন, আমি তাদের জমি থেকে মাটি উত্তোলন করিনি। এগুলো তাদের ভাই ওসমান করেছে। আমি নিজে বিচার প্রার্থী। আমার নিজের জমি হুমকির মুখে পড়েছে। 

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিচুল হককে আদালতের আদেশ এর বিষয়ে জানতে চাইলে উনি বলেন ম্যাসেজ দিয়ে বাদি বিবাদির নাম দেন আমি দেখে জানাচ্ছি। মেসেজে বাদি বিবাদির নাম পাঠানোর ২ ঘন্টা পর ফোন দিয়ে আদালতের আদেশ কত তারিখ আসছে জানতে চাইলে তখন উনি বলেন যখন আসছে তখনই পুলিশ পাঠাইছি বলে ফোন কেটে দেন।

By khobor

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *