খায়রুল কবীর ও এম.শরীফ মাহমুদের বিশেষ রিপোর্ট।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল ইউপির মোহাম্মদপুর গ্রামে সাদা পোষাকের পুলিশ লাঞ্চিত ও পুলিশের সাথে এলাকাবাসীর দাঙ্গাহাঙ্গামার ঘটনার দুঃখ প্রকাশ করে রামরাইল ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত খান বলেছেন, কিছু মানুষের গোজবের কারণে ভালকরে না বুঝেই এলাকাবাসী উত্তাপ্ত হয়ে যায়। গত রবিবার রামরাইলের মোহাম্মদপুরে পুলিশ এলাকাবাসীর দাঙ্গাহাঙ্গামার ঘটনায় আমি অবগত নয় । তবে পুলিশ এখন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামীদের গ্রেফতার করছেন এটা আমি অবগত হয়েছি। কয়েকজন নীরিহ লোকজনকে ছেড়ে দিতে ওসি সাহেবকে ফোনও দিয়েছি। এটি একটা পারিবারিক কলহের ঘটনা। তবে উভয় পক্ষ আমার কাছে আসলে ঘটনাটি মিমাংশা করার চেষ্ঠা করব। গতকাল দুপুরে তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

গত ১১/৩/ ২০১৮ইং তারিখ রোজ রবিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে নয়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল ইউপির মোহাম্মদপুর গ্রামের ফকির বাড়ি এলাকায় মৃত আক্তার হোসেনের ছেলে লিয়াকত আলীর ৪ মাসের অন্তঃসত্তা স্ত্রী শামসুন নাহার(৩০)কে পারিবারিক কলহের জেরধরে তারই স্বামীর আপন ভাই আউলাদ হোসেন ও ওয়াছকরনী  গংরা তাদের ঘরের ভিতর স্বামী স্ত্রীকে আটকিয়ে রেখে মারধর করছেন এমন খবর পেয়ে বোন ও জামাইতাকে বাচাঁতে ভিকঠিমের বড় ভাই স্থানীয় সদর মডেল থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করে সাদা পোষাকের কয়েকজন পুলিশকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। শহর থেকে সন্ত্রাস এসেছে এমন গোজবে সাদা পোষাকের পুলিশ সদস্যদের ও ভিকঠিমের ভাইয়ের উপরও চড়াও হন এলাকাবাসী। ঘটনাস্থলে উত্তিজিত এলাকাবাসীর হাতে সাদা পোষাকের পুলিশ সদস্যরাসহ ভিকঠিমের ভাই আটক হন।  এসময় বিক্ষোদ্ধ এলাকাবাসীর হাতে আটকৃতদের উদ্বারে  ঘটনাস্থলে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এই ঘটনায় বাদী পক্ষের লোকজন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান মজিবের বিরুদ্ধে দাঙ্গাহাঙ্গামায় উস্কানী দেওয়ার অভিযোগ তুলেন।  

উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইলের মোহাম্মদপুর গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরধরে (ফকির বাড়ি) এলাকায় লিয়াকত আলীর স্ত্রী শামসুন নাহার (৩০) নামের এক অন্তঃসত্তা মহিলার উপর হামলা চালিয়ে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করা এবং  বোনকে শশুড়বাড়ির লোকজনের হামলার হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে দাঙ্গাবাঁজদের হাতে আটক হয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন ভিকঠিমের ভাই এমন অভিযোগে এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকার উম্মেদ মিয়ার ছেলে ওয়াছকরনী (৩৫), মৃত আক্তার হোসেনের ছেলে আওলাদ হোসেন(৩৮),আবুল হাইয়ের ছেলে সেলিম মিয়া(২৮),মস্তু মিয়ার ছেলে আবুল হাই(৪৮) সহ ৮ জনের নাম উল্লেখ্য করে অজ্ঞাত নামা আরো ৮/ থেকে ১০জনের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় ভিকঠিমের বড় ভাই কাজী শাহানুর বাদী হয়ে গত ১২/৩/২০১৮ইং তারিখে একটি মামলা দায়ের করেন।

এদিকে বাদীর অভিযোগে পুলিশ মামলাটি আমলে নিয়ে আসামীদের ধরতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এই ঘটনায় জড়িত সন্ধ্যেহ  স্থানীয় এলাকার ৬/৭জনকে গ্রেফতার করেছেন পুলিশ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশ জানান, যারা ঘটনায় জড়িত তাদেরকেই গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। কোন নিরঅপরাধ মানুষকে হয়রাণী করা হবে না।   

By khobor

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *