ব্রাহ্মণবাড়িয়া.প্রেস:- সংবাদদাতা আল মামুন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের গোপন নির্বাচন অনুষ্ঠিত ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাড়ে ৯ হাজার আজীবন সদস্যের সাধারন সভার ভেন্যু একটি স্কুলের মিলনায়তন! আবার স্কুল খোলার দিনে। সভা চালানোর জন্য সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন করা হয়। এমনটি হয়েছে রেডক্রিসেন্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনিটের নির্বাচনী বিশেষ সাধারন সভা আয়োজনে। তবে এই গোপন নির্বাচন নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। আদালতে মামলাও হয়েছে।

নির্বাচনের কার্য্যক্রমে কেন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারী করা হবেনা সে বিষয়ে আদালত ৩দিনের মধ্যে কারন দর্শাতে বলেছেন ইউনিটের নির্বাচনী সমন্বয়ক গোলাম মহিউদ্দিন খান খোকন, ভাইস চেয়ারম্যান জায়েদুল হক ও সেক্রেটারী মোঃ শাহআলমকে। আজ মঙ্গলবার সরকারী ছুটি থাকায় বুধবার আদালতে তাদেরকে এই জবাব দাখিল করতে হবে বলে জানান বাদী পক্ষের আইনজীবি তারিক হোসেন জুয়েল। এ সংক্রান্ত দেওয়ানী মোকদ্দমাটি (৩০৫/২০১৯) দায়ের করেন মিনারা আলমসহ ইউনিটের মোট ৯জন আজীবন সদস্য। এর প্রেক্ষিতে ৫ সেপ্টেম্বর আদালত এই আদেশ দেয়। এরই মধ্যে ৭ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভেন্যুতে ইউনিটের বিশেষ সাধারন সভা এবং পরদিন মুলতবী সভা করা হয়। এরপরই বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিতদের নাম ঘোষনা করা হয়। মহাসচিবের কাছে অভিযোগকারীদের অন্যতম বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, ইউনিটের সদস্য সংখ্যা সাড়ে ৯ হাজার। সাধারন সভার ভেন্যু করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মিলনায়তন। ওই মিলনায়তনে শতাধিক লোকের জায়গাও হবে না। সাধারন সভায় ৩০/৪০ জনও উপস্থিত হয়নি।

শুনেছি কাগজপত্রে ৫’শ জনের উপস্থিতি দেখানো হয়েছে। তাছাড়া স্কুল খোলার দিন কিভাবে একটি স্কুলে সাধারন সভার ভেন্যু হয় সেটি আমার প্রশ্ন। তবে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা কামাল বলেছেন, অনুমতি নিয়েই তারা বিদ্যালয়ের মিলনায়তন ব্যবহার করেছেন। এতে ক্লাসের কোন সমস্যা হয়নি। বিদ্যালয়টিতে ১৪’শ ছাত্র রয়েছে। ওই মিলনায়তনে বিশেস সময়ে ক্লাসও হয়। নির্বাচনে ৭ পদের সবাই বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হন। বর্তমান এডহক কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান জায়েদুল হক এবং সেক্রেটারী মো: শাহআলম ২০১৯-২১ সাল মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটিতে স্বপদে রয়েছেন। ইউনিটের নির্বাচন নিয়ে নানা অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে মামলার এজাহার এবং সোসাইটির চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের কাছে দেয়া অভিযোগে। এসবের মধ্যে রয়েছে, নির্বাচনের ৩০ দিন পূর্বে তফসিল ঘোষণা করার কথা থাকলেও ঠিক ১৭ দিন আগে স্থানীয় সংবাদপত্রে নির্বাচনের তফশীল ঘোষণা করা হয়। নিরপেক্ষ লোকের বদলে জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক গোলাম মহিউদ্দিন খান খোকনকে নির্বাচনের সমন্বয়কারী করা হয়।

তার বরাতেই স্থানীয় দুটি সংবাদপত্রে ২০ আগষ্ট নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করা হয়। নির্বাচনের ১৫ দিন আগে ও.জি এম’র (ওর্ডিনারী জেনারেল মিটিং) স্থান সম্পর্কিত চিঠি পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে আজীবন সদস্যদের কাছে প্রেরন করার নিয়মও রক্ষা করা হয়নি। ভোটার তালিকা যথাযথ প্রক্রিয়ায় হালনাগাদ করা হয়নি। প্রার্থীদের মনোনয়নের টাকা পরিপত্রের বেশী নির্ধারন করা হয়। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, নির্বাচনের সমন্বয়ক গোলাম মহিউদ্দিন খান খোকন এবং জায়েদুল হক ও শাহআলম একই দলের হওয়ায় পরস্পর যোগসাজসে ভোটার ও নির্বাচন ছাড়াই তাদের মনোনীত ব্যাক্তিদের নির্বাচিত করার কুটকৌশল হিসেবে গোপনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করেন।

By khobor

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *