ব্রাহ্মণবাড়িয়া.প্রেসঃ-  বার্তা মোঃ এনামুল হক/ব্রাহ্মণবাড়িয়া,(আজকের পত্রিকা)।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিতর্কিত চিকিৎসক মোঃ সৈকত আহাম্মদ জনিকে আটক করেছে পুলিশ। ১৩ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিকেলে পৌর শহরের পূর্ব পাইকপাড়ার আল-খিদমাহ হাসপাতাল থেকে তাকে আটক করা হয়। বিতর্কিত এই চিকিৎসককে আটক করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিকিৎসক সমাজ। তারা বিতর্কিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পুলিশের প্রতি দাবি জানান।

পুলিশ জানায়, বিতর্কিত চিকিৎসক মোঃ সৈকত আহাম্মদ জনি দীর্ঘদিন ধরে কুমারশীল মোড়ে আল খিদমা হাসপাতালে বসে রোগী দেখে আসছেন। সার্জারীর কোন সনদপত্র না থাকা সত্বেও জটিল অপারেশন করে আসছেন প্রতিনিয়ত। তার অপচিকিৎসায় রোগীরা মাশুল দিচ্ছেন। এদিকে জনি আটক হওয়ার খবর পেয়ে ভুক্তভোগীরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে থানায় ভীড় জমাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌর এলাকার কাজীপাড়ার মরহুম আব্দুল আউয়ালের ছেলে অটোরিকসা চালক মোক্তার হোসেনকে এক মাস আগে অপারেশন করেন বিতর্কিত চিকিৎসক মোঃ সৈকত আহাম্মদ জনি। অপারেশন সফল না হওয়ায় মোক্তারের পায়ে পঁচন ধরলে মোক্তার এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।

সম্প্রতি কুমারশীল মোড়ের এক হোটেলের কর্মচারী তার পিতাকে নিয়ে যায় ডাঃ জনির কাছে। জনি ওই রোগীর অপারেশন করলে রোগীর অপারেশন স্থলে পঁচন ধরে। ওই রোগী এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ওই রোগীর আত্মীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার বিকেলে পুলিশ আল-খিদমার চেম্বার থেকে বিতর্কিত চিকিৎসক জনিকে আটক করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একটি সূত্র জানায়, শহরের একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় মোঃ সৈকত আহাম্মদ জনি একের পর এক অপকর্ম করে যাচ্ছে। প্রভাবশালী মহলটির ভয়ে সাধারণ লোকজন জনিকে কিছু বলতে সাহস পায়না।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে জনি পুলিশকে জানায়, সে মেডিসিন চিকিৎসক। তার সার্জারীর কোন সনদপত্র নেই। সার্জারীর কোন সনদপত্র না থাকা সত্ত্বেও কেন রোগীর অপারেশন করেন? পুলিশের এমন প্রশ্নের জবাবে জনি নিশ্চুপ থাকেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একজন প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক জানান, মোঃ সৈকত আহাম্মদ জনি কোন চিকিৎসক নয়। সিভিল সার্জন কার্যালয়ে তার কোন তালিকা নেই। কোন ধরনের চিকিৎসক না হওয়া সত্বেও জনি রোগীর সাথে প্রতারণা করে আসছেন। সে চিকিৎসক সেঁজে দেদারছে একের পর এক রোগীকে অপারেশন করে যাচ্ছেন। রোগীরা তার কাছে চিকিৎসা করিয়ে তার খেসারত দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে সদর মডল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ সলিম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বিতর্কিত চিকিৎসক মোঃ সৈকত আহাম্মদ জনিকে আটক করার কথা স্বীকার করে বলেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল কবিরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বিতর্কিত চিকিৎসক মোঃ সৈকত আহাম্মদ জনিকে আটকের কথা স্বীকার করে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তার কথাবার্তায় অসংগ্লনতা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, রোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। 

By khobor

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *